জাহাঙ্গীর খান বাবু
কোটা সংস্কার আন্দোলনে রাজধানীসহ সারাদেশে বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ ঘটনায় গত ১৯ জুলাই থেকে অনিদির্ষ্টকালের জন্য ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় আবারও গতকাল সোমবার থেকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। তবে আজ মঙ্গলবার থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল, কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে। তবে আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল শুরু করবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবরা বৈঠক করেন। এ বৈঠকে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। গতকাল সোমবার থেকে মালবাহী ট্রেন ও আজ মঙ্গলবার থেকে মেইল, এক্সপ্রেস, লোকাল, কমিউটার ট্রেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার থেকে আন্তঃনগর ট্রেন পর্যায়ক্রমে পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক জনসংযোগ মো. নাহিদ হাসান খাঁন গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
এতে আরো বলা হয়েছে, পারাবত ও জামালপুর এক্সপ্রেস ট্রেনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট আগামীকাল বিকাল ৫টা থেকে ক্রয় করা যাবে। কোটা সংস্কার আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ হয়েছে। এসময় কোথাও বাস-ট্রাকে আগুন দেয়া হয়েছে, কোথাও ভাঙচুর করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের আগুনের শিকার হয়েছে ট্রেনও। ফলে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয় ১ জুলাই। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষের পর বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। পরদিন ১৬ জুলাই থেকে এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা, সংঘর্ষ, সহিংসতা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে।
কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে গত ১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। আন্দোলনে সড়ক পরিবহনের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়েও। নিরাপত্তার স্বার্থে সারা দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
আন্দোলনের মধ্যে গত ১৯ জুলাই ঢাকায় আসার পথে নরসিংদী রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হয় কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। ট্রেনের তিনটি কোচে আগুন দেয় তারা। মুহূর্তেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় নতুন কেনা তিনটি কোচ। এতে রেলওয়ের ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। এছাড়াও সেদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামলা করা হয় সোনার বাংলা, কক্সবাজার, পারাবত এক্সপ্রেসসহ বেশ কয়েকটি ট্রেনে। এতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশ কয়েকটি কোচ।
১৯ জুলাই রাতে সারা দেশে কারফিউ জারি করা হলে বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। এতে বিপুল ক্ষতির মুখে পড়ে রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন খাত। রেলওয়ের বাণিজ্যিক বিভাগ জানিয়েছিলো ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলে প্রতিদিন অন্তত ৪ কোটি টাকার ক্ষতি হয়।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী জানিয়েছিলেন, বিভিন্ন জায়গায় সিগনালিং ব্যবস্থার সমস্যা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন ট্রেনে আগুন দেয়া, বিভিন্ন ট্রেনের জানালার কাচ ভেঙে দেয়াসহ বেশ কিছু কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তার জন্য চলাচলরত অবস্থায় ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়। কোচ, ইঞ্জিন, ইলেকট্রিক সিস্টেম যেহেতু কয়েকদিন বন্ধ ছিলো, এসব ছোটখাটো পরীক্ষা আমরা অল্প সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে পারব। ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলে আমরা নিরাপত্তার সাধারণ প্রস্তুতি শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেন চালাব।
জানাগেছে, হামলাকারীরা কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের তিনটি কোচে আগুন দিয়েছে। এ ছাড়া সোনার বাংলা, কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পারাবত এক্সপ্রেসের বিভিন্ন কোচে হামলা করে ভাঙচুর করেছে। বিভিন্ন স্টেশনে বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, সিগন্যাল ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তবে রেললাইন উপড়ে ফেলার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। সারা দেশে কয়েকটি জায়গায় ট্রেনে ও স্টেশনে রাখা বিভিন্ন যন্ত্রাংশে হামলা করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

ট্রেন চলাচল শুরু
- আপলোড সময় : ১২-০৮-২০২৪ ১১:৫৪:০৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১২-০৮-২০২৪ ১১:৫৪:০৬ অপরাহ্ন


কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ